জয় চন্দ্র শীল, বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনায় পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কাজের মধ্যে চরম সমন্বয়হীনতার মাশুল গুনছে সাধারণ মানুষ। বেড়িবাঁধ উন্নয়ন করতে গিয়ে তছনছ হয়ে গেছে চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। বিগত ৬ বছর ধরে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় উপকূলীয় এলাকার কয়েক লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপকূলীয় এ জেলার বিশাল এলাকাজুড়ে জরাজীর্ণ বেড়িবাঁধ সংস্কারের জন্য বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হলেও, বাঁধের ওপর দিয়ে চলাচলের রাস্তাগুলো এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের কারণে পাকা সড়কগুলো ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। বর্ষার সামান্য বৃষ্টিতেই এসব রাস্তা কর্দমাক্ত হয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পাউবো যখন বাঁধের কাজ শুরু করে, তখন এলজিইডি’র তৈরি করা সড়কগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়। কিন্তু কাজ শেষে সড়কগুলো পুনরায় মেরামত করার জন্য কোনো পক্ষই দায় নিচ্ছে না। এলজিইডি বলছে বাঁধের কাজ শেষ না হলে তারা রাস্তা করতে পারছে না, আর পাউবো বলছে তাদের কাজ শুধু বাঁধ রক্ষা করা, সড়ক মেরামত নয়। দুই দপ্তরের এই ‘ঠেলাঠেলিতে’ দীর্ঘ ৬ বছর ধরে স্থবির হয়ে আছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। জরুরি কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন গ্রামে প্রবেশ করতে পারছে না। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:"৬ বছর ধইরা আমরা কাদার মধ্যে হাঁটি। বাঁধের উন্নয়ন হইতাছে শুনি, কিন্তু আমাগো চলার পথ তো বন্ধ হয়া গেল। সরকার কি এই কষ্ট দেখে না?"
এ বিষয়ে এলজিইডি’র স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, প্রকল্পের সমন্বয় নিয়ে উচ্চপর্যায়ে আলোচনা চলছে। অন্যদিকে, পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, বাঁধের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতেই তারা কাজ করছেন, তবে জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
উন্নয়ন টেকসই করতে দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় জরুরি। বরগুনার এই বিচ্ছিন্ন জনপদকে মূল ধারার সাথে যুক্ত রাখতে এবং উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘ ৬ বছরের দুঃখ ঘোচাতে অতি দ্রুত এই সড়ক ও বাঁধ সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।