নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ
ঈদুল আজহা সামনে রেখে কোরবানির পশু কেনাবেচা জমে উঠেছে| পশুর পাশাপাশি বাড়ছে কসাই সরঞ্জামের চাহিদাও| দা, বঁটি, ছুরি, চাপাতির পাশাপাশি কদর পেয়েছে কাঠের ˆতরি মাংস কাটার খাটিয়া, হোগলা, প্লাস্টিক|অস্থায়ী দোকানে সাজিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের প্লাস্টিক, হোগলা, খাটিয়া| বিক্রেতারা জানাচ্ছেন, সর্বনিম্ন ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৬০০ টাকা পর্যন্ত দামে এসব খাটিয়া বিক্রি হচ্ছে| সাধারণত তেঁতুল কাঠের ˆতরি খাটিয়াই সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন|
ঈদের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে গাছের গুঁড়ির চাহিদা ততই বাড়ছে| হাট বাজারে কিংবা নগরীর বিভিন্ন রাস্তার পাশে এসব গাছের গুঁড়ির পসরা সাজিয়ে বসে বিক্রি করছেন মৌসুমি বিক্রেতারা| নগরীর বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে এসব গুঁড়ি ক্রয় করছেন|গাছের গুঁড়ি মূলত তেঁতুল, নিম, করইসহ বিভিন্ন গাছের হয়| এরমধ্যে ক্রেতাদের কাছে তেঁতুল গাছের গুঁড়ির চাহিদা রয়েছে সবার উপরে| এক একটি গাছের গুঁড়ি ১ফুট বা সোয়া ফুট ল¤^া রাখা হয়| প্রতিটি গাছের গুঁড়ি ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে|
স্থানীয় এক ক্রেতা ইসলাম জানান, “কোরবানির ঈদে খাটিয়া দরকার হয়, তাই এবার ৪০০ টাকায় একটি তেঁতুল কাঠের খাটিয়া কিনেছি|” আরেক ক্রেতা ছালেক বলেন, “কসাইরা তো খাটিয়া ব্যবহার করে, এখন সাধারণ মানুষও কাজের সুবিধার্থে কিনে নিচ্ছেন|”উপজেলার একাধিক ‘স’মিল মালিকরা জানান, সব গাছ দিয়ে গুঁড়ি ˆতরি করা যায় না| তেঁতুল গাছের গুঁড়ি সব চেয়ে ভালো হয়| আর তেতুঁল গাছ ছাড়া অন্য গাছ দিয়ে খাটিয়া ˆতরি করলে মাংসের সঙ্গে গাছের গুঁড়ি উঠে মাংসের মান নষ্ট হয়ে যায়|
আর এই গাছের গুঁড়ি সহজে নষ্ট হয় না| কাজ শেষে পরিষ্কার করে যত্ন করে রাখলে বহুদিন থাকে| তাই ঈদুল আজহা আসলেই সবার কাছে তেঁতুল গাছের গুঁড়ির চাহিদা বেড়ে যায়|তারা আরো জানান, এখন আর আগের মতো তেমন বেশি তেঁতুল গাছ পাওয়া যায় না| আর পাওয়া গেলেও অতিরিক্ত দামে ক্রয় করতে হয়| তারপর ‘স’মিলে নিয়ে খন্ড করে গুঁড়ি ˆতরি করে বিক্রি করা হয়|
মৌসুমি তেঁতুল গাছের গুঁড়ি বিক্রেতা ছালামত মোল্লা বলেন, ঈদকে কেন্দ্র করে গুঁড়ির কদর বেড়েছে| ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী ছোট, মাঝারি ও বড় তিন ধরনের গুঁড়ি তিনি ˆতরি করে বিক্রি করছেন| তার কাছে বেশি বিক্রি হচ্ছে তেঁতুল গাছের গুঁড়ি| এক একটি গুঁড়ি ২০০ টাকা থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করছেন|
৫নং ওয়ার্ড এলাকার আওলাদ ভুইয়া বলেন, গরু কেনা শেষ| শুধু বাকি ছিল গাছের গুঁড়ি কেনার| তেঁতুল গাছের গুঁড়ি ভালো হওয়ায় ৩৫০ টাকায় একটি ক্রয় করলাম|আরো জানান, কোরবানির পশু জবাইয়ের পর চামড়া ছাড়ানোর পর পরিচ্ছন্নভাবে গোশত কাটার জন্য গাছের গুঁড়ি ভালো হয়| তাই বড় আকারের একটি তেঁতুল গাছের গুঁড়ি ৩৫০ টাকায় কেনা হয়েছে|
নবগ্রাম থেকে আসা কাঠ ব্যবসায়ী আক্তার হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর ধরে তেঁতুল গাছ পাওয়া বড়ই দুষ্কর হয়ে উঠেছে| ফলে তেঁতুল গাছের ˆতরি গুঁড়ির দাম একটু বেশি নেয়া হচ্ছে| এখন মানুষ খুবই সচেতন| সবাই চায় পরিচ্ছন্নভাবে মাংস বানাতে|অপর দিকে মুড়াপাড়া বাজারে আসলাম মিয়া বসেছেন হোগলা নিয়ে| এবার নাকি হোগলার দাম একটু বেশি| বিভিন্ন চরাঞ্চলে তেমন হোগলা না জন্মানোর কারনে ঠিকমত হোগল পাতা পাওয়া যাচ্ছে না|
তাই তারা বিভিন্ন উপকুলীয় এলাকা থেকে হোগলপাতা ক্রয় করে আনা ও বোনা পর্যন্ত খরচের পরিমান বেড়ে গেয়ে ফলে বড় সাইজের একটি হোগলা বিক্রি করছেন ২০০ থেকে ৩০০ টাকা| আর মাঝারি সাইজেরটা বিক্রি করতে হচ্ছে ২০০টাকা