নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ
কয়েক বছর আগেও দেখা গেছে, মা-চাচিরা দা, বঁটি ব্যবহার করতেন| আর এখন সেই জায়গায় দখল করেছে চায়না ছুরি, ব্ল্যান্ডার মেশিন| হরি গোপাল বলেন, "আগে অনেক কামারশালা ছিল| অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে দিয়েছেন| আমি কম করে ৩০-৪০ বছর এই ব্যবসায় রয়েছি, বাবা ঠাকুরদা সবাই এই কাজই করতেন| মানুষ প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করা শুরু করেছেন|"
দেশের ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে বাঁচাতে বিদেশি লৌহজাত পণ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ জরুরি বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের| একটা সময় দেখা যেত আগুনে পুড়িয়ে নরম করা টকটকে লাল লোহা পিটিয়ে বিভিন্ন যন্ত্র ˆতরি করছেন কামাররা| লোহায় একের পর এক আঘাত করে বিভিন্ন আকৃতির যন্ত্র ˆতরি করছেন তারা| দা,বটি, ছুরি, ছোরা, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ার ˆতরিতে ব্যস্ত কামাররা| এখন এ সবই স্মৃতি| এ শিল্পের মূল উপকরণ লোহা, ইস্পাত ও কয়লার দাম বেড়ে গেছে|
আগে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায় এক বস্তা কাঠ-কয়লা পাওয়া যেত| এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়| ফলে যন্ত্র ˆতরি ব্যয় বেড়েছে| জয় মা কর্মশালার নিরঞ্জন বলেন, এখন ঈদেও বিক্রি তেমন জমে না| কাস্টমাররা দাম বেশি বলে কিনতে চায় না| কম দামে চায়না যন্ত্র কিনছে অধিকাংশ কাস্টমার|
কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি ও বিদেশি ছুরি-কাচিতে সয়লাব বাজার, চাকচিক্য পণ্যে ক্রেতা আগ্রহ বাড়ায় কমেছে দেশিয় লোহার ˆতরি পণ্যের চাহিদা, লোকসানে কামারপল্লী| লোহা ও কয়লার দাম বেশি থাকায় কামারদের ˆতরি জিনিসপত্রের দাম কিছুটা বেড়েছে বলে জানান কামারপট্টির ব্যবসায়ীরা| দেশীয় যন্ত্রপাতির চেয়ে চাইনিজ যন্ত্রপাতির দাম কিছুটা কম|
নিখিল চন্দ্র দাস বলেন, এখন এ পেশার রোজগারে সংসার চলাই যেন দায়| দোকান খুলে সারাদিন বসে থাকলেও কাজের অর্ডার আসে না| তাই কাটাতে হয় অলস সময়| নিখিল চন্দ্র একাই নন, এ পেশায় জড়িত প্রায় সবার অবস্থা একই|
প্রাচীনকাল থেকে বিভিন্ন গৃহস্থালি ও কৃষি যন্ত্রপাতি দা, বটি, চাকুর জন্য কামারদের ওপরই নির্ভর করতে হতো| দাম কিছুটা বেশি হলেও দেশীয় এসব লৌহজাত পণ্যের মান ছিল ভাল| তবে কালের বিবর্তনে কামারদের ˆতরি লোহার পণ্যের জায়গা দখলে নিয়েছে ভিনদেশি পণ্য| উৎপাদন কমেছে কামারপল্লীতে| শিল্পে জড়িতদের দিন কাটছে অর্থকষ্টে| অনেকেই বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন|
স্থানীয় কামাররা জানান, লোহার পণ্যের মান ভালো হলেও চায়নার পণ্য দেখতে আকর্ষণীয়, দামেও কম, প্রচার প্রচারণা বেশি| দেশি পণ্যেও প্রচার কম, দাম বেশি, তাই ক্রেতারা ঝুঁকছেন বিদেশি পণ্যের দিকে| ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন দেশের আদি এ শিল্পকে বাঁচাতে দরকার যথাযথ সরকারী পদক্ষেপের|
উপজেলার কামার সমিতির সভাপতি কালিপ্রদ রায় বলেন, বাজারে আগে অনেক কামার শিল্প ছিল| এখন সেগুলো প্রায় বিলুপ্তির পথে| সরকারের কাছে ঐতিহ্যবাহী এই কামার শিল্প বাঁচিয়ে রাখার জন্য আহ্বান কামারপল্লীর ব্যবসায়ীদের |