২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলে লজ্জাজনকভাবে হেরেছিল ব্রাজিল। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময়। কিন্তু সময় যতই অতিবাহিত হোক না কেন ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে হারের এই স্কোরলাইন বারবারই ফিরে আসে। কখনো মিম হয়ে, কখনোবা অন্য কোনো ম্যাচের স্কোরলাইন এমন হলে, এমনকি কোনো দল ৭ গোল করলে কিংবা হজম করলেও ফিরে আসে ব্রাজিলিয়ানদের সেই হারের প্রসঙ্গ—যা আবার বাংলাদেশের অনেক ফুটবলপ্রেমীর কাছে ‘সেভেন আপ’ নামেও পরিচিত।
এখন চলছে এশিয়ান গেমস। যেখানে চরম বাজে সময় কাটছে বাংলাদেশের। কোন ইভেন্টেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। আজকেই যেমন ক্রিকেটে অনেক স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশের ভক্ত-সমর্থকদের। কিন্তু পাকিস্তানের কাছে হেরে স্বর্ণপদক জয়ের লড়াই থেকে ছিটকে গেছে লিটন-মোস্তাফিজরা। এরপর এশিয়ান গেমস হকিতে তো আরও বড় লজ্জা পেল বাংলাদেশ। পুরুষ হকিতে চীনের বিপক্ষে পাত্তাই পেল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। স্থান নির্ধারণী ম্যাচে চীনের কাছে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাস্ত হয়েছে। এর ফলে ফুটবল না হলেও স্কোরলাইন একই হওয়ায় সেই ‘সেভেন-আপ’ এর গল্পটাই মনে পড়ে গেল ভক্ত-সমর্থকদের।
জাপানের গিজু প্রিফেকচারাল গ্রিন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে ম্যাচের শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে একচেটিয়া জয় তুলে নেয় এশিয়ার পরাশক্তিরা। ম্যাচের বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলে বাংলাদেশকে চেপে ধরে চীন। একের পর এক ধারালো আক্রমণে তারা ব্যস্ত রাখে বাংলাদেশের রক্ষণভাগকে। চীনের পক্ষে গোল উৎসবে মেতে ওঠেন ঝাং জিয়ালিং, ঝাও ইউলাই, চেন বেনহাই, ওয়াং ইয়াকি ও গাও জিয়েশেং।
চীনের আক্রমণের তোপে গোলের ব্যবধান যত বেড়েছে, ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও ততটাই বাংলাদেশ হাতছাড়া করেছে। বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচের ৩০তম মিনিটে একাই এক গোল করে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন রাকিবুল হাসান। তার চমৎকার ফিল্ড গোলটি ব্যবধান কমালেও ম্যাচের সামগ্রিক চিত্রে কোনো বড় প্রভাব ফেলতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ৭-১ গোলের বড় পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় চয়নদের।
এই বিশাল হারের ফলে টুর্নামেন্টে পঞ্চম কিংবা ষষ্ঠ স্থান অর্জনের সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেল বাংলাদেশের। এখন টুর্নামেন্টে সপ্তম ও অষ্টম স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে থাইল্যান্ডের মুখোমুখি হতে হবে বাংলাদেশকে।
আগামী ৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। আসরের শেষ ম্যাচে থাইল্যান্ডকে হারিয়ে অন্তত জয় দিয়ে এশিয়ান গেমস মিশন শেষ করাই এখন লাল-সবুজ দলের মূল লক্ষ্য।