
মহাকাশে শক্তিশালী এক সংকেত আবিষ্কার করেছেন জ্যোতি র্বিজ্ঞানীরা। এটি ‘ফাস্ট রেডিও বার্স্ট’বা এফআরবি, যা মহাবিশ্বের অন্যতম বড় এক রহস্য। এটি এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে দূরের এফআরবি। প্রায় ১০০০ কোটি বছর মহাবিশ্ব পাড়ি দিয়ে এটা পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, বিগ ব্যাংয়ের ৩০০ কোটি বছর পর এটা তৈরি হয়েছিল।
স্বল্পস্থায়ী এই শক্তির উৎস নিয়ে মতভেদ রয়েছে বিজ্ঞানীদের। চরম শক্তিধর কোনো জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বস্তু ও ভিনগ্রহের কোনো প্রযুক্তিসহ সব সম্ভাবনাই এর উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সম্প্রতি বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল সায়েন্সে গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা জানান, এ আবিষ্কার শুধু এফআরবির রহস্যময় উৎস উন্মোচন করতেই সাহায্য করবে না, বরং ছায়াপথের বিবর্তন ও বিভিন্ন ছায়াপথের মধ্যবর্তী অদৃশ্য বস্তু গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমও হয়ে উঠবে। সিগন্যালটি নিজের যাত্রাপথে মহাবিশ্বের যেসব অংশের ওপর দিয়ে এসেছে, সেগুলোর তথ্যও বহন করে এনেছে।
ইউনিভার্সিটি অব সিডনির গবেষক মনীষা কালেব বলেন, এটা দূরবর্তী মহাবিশ্বের এক অসাধারণ ঝলক। আমরা এমন এক সময়ের একটি ফাস্ট রেডিও বার্স্ট খুঁজে পেয়েছি, যখন মহাবিশ্বের বয়স ছিল শুধু ৩০০ কোটি বছর এবং রেডিও আলোর সেই সংক্ষিপ্ত ঝলকটিকে ব্যবহার করে আমরা কোটি কোটি বছর ধরে এর যাত্রাপথের নানা বিষয় সম্পর্কে জানতে পেরেছি।
গবেষকরা শুধু সিগন্যালটিই শনাক্ত করেননি, বরং যে ছায়াপথ থেকে এটা তৈরি হয়েছিল সেটাও খুঁজে বের করেছেন, যা মহাবিশ্বের ব্যতিক্রমী অংশ বলে চিহ্নিত হয়েছে। মহাবিশ্বের একেবারে আদি পর্বের এক শক্তিশালী শক্তির বিস্ফোরণ বা ফাস্ট রেডিও বার্স্ট নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এনেছেন বিজ্ঞানীরা
গবেষকরা জানান, এফআরবি কোন পরিবেশে জন্ম নেয়, সে সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র দিতে পারে এই সংকেত। পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত রেডিও ফ্ল্যাশগুলো শুধু দূরবর্তী মহাবিশ্ব সম্পর্কেই নয়, বরং ছায়াপথ ও সেগুলোর তারাপুঞ্জ কীভাবে বিবর্তিত হয় সে বিষয়েও ধারণা দিতে পারে। এ আবিষ্কার রহস্যময় শক্তি বিস্ফোরণের উৎস সম্পর্কে জানাশোনা আরও সমৃদ্ধ করেছে।