প্রতিবেদক: (মুহসিন মিয়া শাহিন)
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার এক শান্ত সকাল। সবুজে ঘেরা একটি গ্রামের পথ ধরে হেঁটে আসছেন দুইজন প্রবীণ মানুষ। একজনের হাতে ছাতা, আরেকজনের চোখে গম্ভীরতা ও জীবন দেখার গভীরতা। ছবি দেখেই বোঝা যায়, বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও তাঁদের চেতনায় এখনো জীবনের শক্তি।
এই দুইজন প্রবীণ ব্যক্তিই এলাকার পরিচিত মুখ। গ্রামীণ সমাজে তাঁদের অবস্থান ঠিক যেনো বটগাছের মতো—শীতের রোদ, গরমের ছায়া, আর বর্ষার পরামর্শদাতা। একজন ছিলেন কারিগরি শ্রমজীবী, এখন অবসর জীবনে আছেন। আরেকজন ছিলেন মসজিদের সঙ্গে যুক্ত একজন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, যাঁর গলায় রয়েছে একটি শান্ত মধুর কণ্ঠ।
তাঁদের মতো মানুষদের স্মৃতিতেই জমা থাকে গ্রামের শত বছরের ইতিহাস। কোন পরিবার কখন কীভাবে বসতি গড়েছে, কোথায় প্রথম ইটের রাস্তা হয়েছে কিংবা গ্রামের প্রথম বিদ্যুৎ কখন এসেছিল—সবকিছুই জানা তাঁদের।
বর্তমান প্রজন্ম যখন ব্যস্ত প্রযুক্তির জগতে, তখন এই প্রজন্মের উচিত এই অভিজ্ঞতাধারীদের কাছ থেকে জীবনের পাঠ নেওয়া। শুধু ইতিহাস জানার জন্য নয়, মূল্যবোধ, ধৈর্য, পরিশ্রম ও সততার শিক্ষাও নেওয়ার জন্য।
এই দুই প্রবীণ মানুষ আমাদের সমাজের জীবন্ত সম্পদ। তাঁদের সম্মান জানানো, খোঁজ রাখা, এবং সময় কাটানো—এটাই হতে পারে আমাদের নৈতিক দায়িত্ব এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সবচেয়ে বড় পথ।