ধর্মপাশা, শফিকুল ইসলাম শফিক
বাংলাদেশের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলাকে মিঠাপানির মৎস্য ভান্ডার নামে খ্যাত থাকলেও, তারি অংশ বিশেষ ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার টাংঙ্গুয়ার হাওরের অংশ সহ ১০৮ টি ছোট বড় হাওর, বিল ও কালাপানি, কংশনদ,কাওনাই নদী, সোমেশ্বরীনদী,সুনই নদী,বৈলাইনদী সহ আরো ছোট বড় ৫ টি নদী এই দুইটি উপজেলাকে ঘিরে রেখেছে।
এখান থেকে বছরে হাজার কোটি টাকার মৎস্য আহরণ হত,কিন্তু দুঃখের সঙ্গে এলাকাবাসী জানায়,ইজারাদাররা ফাল্গুন চৈত্র মাসে অবৈধভাবে খাল বিল শেলুমেশিন দিয়ে শুকিয়ে এবং মশারী জাল,চায়নাজাল,কারেন্টজাল ও চায়না বাইড় দ্বারা হাওর এবং নদীর গুলির মাছের বংশ ধ্বংস করে। অন্যদিকে প্রভাবশালী মহল ১ সনের জন্য খাস কালেকশনের নামে বন্দোবস্ত নিয়ে সম্পূর্ণ রুপে বিল বাদল শুকিয়ে মাছ ধরে ফেলে।
জৈষ্ঠ্য ও আষাঢ় মাসে হাওরে নদীতে বিভিন্ন দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা ছাড়ে।কিন্তু বর্তমানে হাওর ও নদীগুলোতে মাছের প্রজনন খুব সামান্য পরিমাণে হয়েছে বলে মৎস্য শিকারীরা জানিয়েছে।
কিন্তু অসাধু মৎস্য শিকারীরা এরি মধ্যে মশারীজাল,খনাজাল,চায়নিজ জাল দিয়ে দল বেধে ১৫/২০ জন মিলে ৫০০-১০০০ হাত লম্বা জাল দিয়ে হাওরের ইজারাদারদেরকে টাকা দিয়ে দেশীয় মৎস্য সম্পদ ধ্বংস করে চলেছে।
বর্তমানে দেশীয় মাছ - ঘোলষা,পাবদা,হিলুন, বাচা, মিনিমাছ,লাটি,কই, শিং, মাগুর, শোল,গজার,পুডা, রিডা,নানিদ,বাগাইড়,লাছ,বোয়াল,ঘাগট,কালিয়া, মাসুল,বাইম,কারগো স্থানীয় বাজার গুলুতে দেখাই যায়না।
দেশীয় মাছের মধ্যে টেংরা, পুঁটি,মলা,ঢেলা,তারাবাইম,চিকরাবাইমা, ঘনিয়া মাছের পোনা, কালিয়া মাছের পোনা সচারাচর বাজারে দেখতে পাওয়া যায়, যাহা জনসাধারণের কেনা অসম্ভব। পাইকারগণ এই সমস্ত মাছ চরা দামে কিনে ঢাকা সহ বিভিন্ন বিভাগ ও জেলা শহরে পাঠিয়ে অধিক মুনাফা অর্জন করে।
অন্যদিকে ধর্মপাশা ও মধ্যনগর উপজেলার ধর্মপাশা সদর বাজার, মধ্যনগর উপজেলা সদর বাজার, বাদশাগজ্ঞ বাজার, গাছতলা বাজার, জয়শ্রী বাজার, রাজাপুর বাজার, শানবাড়ী বাজার, গোলুকপুর বাজার, বংশিকুন্ডা বাজার, মহেশখলা বাজার সমূহ ঘুরে দেখা যায়, চাষ করা মাছের পশরা সাজিয়ে বসে আছে মাছ বিক্রেতারা- মাছ গুলির মধ্যে রয়েছে, পাংগাশ,তেলাপিয়া, সিলভার, কালিয়া, রুই,মিকরা,কারগো মাছের পোনা, শিং, কই চাষের মাছ বাজার ভরপুর।
এই সকল মাছ অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং অখাদ্য কুখাদ্য খাওয়ায়ে লালন পালন করা হয় বিধায় উল্লেখিত মাছ সমূহে দুর্গন্ধ করে এবং অনেক রোগের জন্ম দেয় তবু জনসাধারণ বাধ্য হয়ে এই সকল মাছ কিনে খান।
ভুক্তভোগী মহল দাবী জানিয়েছে, অবৈধ মৎস্য শিকারী ও দুনীতি বাজ ইজারাদারদের বিরুদ্ধে আইননানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য উধ্বর্তন কতৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ একান্ত ভাবে কাম্য।