আজীজুল রহমান, রিপোর্টার বাগেরহাট
বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় মহিলা সংস্থার বাস্তবায়নাধীন “তথ্য আপা: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে নারীদের ক্ষমতায়ন প্রকল্প”-এর আওতায় বাগেরহাটের রাখালগাছিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক গঠনমূলক উঠান বৈঠক।
নারীদের সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে আলোচনা
বৈঠকে বক্তারা বলেন, তথ্য প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে নারীরা নিজেদেরকে আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন। প্রযুক্তি জ্ঞান আজকের দিনে নারীর সামাজিক, পারিবারিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মূল হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে গ্রামীণ নারীদের তথ্যসেবা ও প্রশিক্ষণের আওতায় আনার মাধ্যমে পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা।
ইসলামী মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ব
আলোচনায় বক্তারা আরও বলেন, ইসলামী মূল্যবোধে নারীর মর্যাদা ও সামাজিক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নারী কেবল পরিবারের ভিত্তি নয়, নৈতিক সমাজ গঠনে তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারে।
সঠিক দিকনির্দেশনা, প্রশিক্ষণ ও ন্যায়ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের সম্মানজনক অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে সহায়ক।
স্থানীয়দের অংশগ্রহণ ও অভিমত
স্থানীয় নারী-পুরুষদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এই উঠান বৈঠকে নারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা শেয়ার করেন। অনেকে জানান, তারা প্রথমবারের মতো তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্বক ধারণা পেয়েছেন এবং তা ব্যবহার করতে আগ্রহী।
অতিথিদের উপস্থিতি
উঠান বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাট-২ আসনের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রাপ্তি মনজুরুল হক রাহাত।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন:
“নারীর ক্ষমতায়ন কোনো একক বিষয় নয়, এটি সামাজিক, পারিবারিক ও জাতীয় উন্নয়নের অপরিহার্য অংশ। তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান নারীদের সামনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।”
উপসংহার
এ ধরনের উঠান বৈঠক গ্রামীণ নারীদের মাঝে সচেতনতা ও প্রযুক্তি-জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়ার একটি কার্যকর মাধ্যম। বক্তারা মনে করেন, এমন উদ্যোগ নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং সমাজে তাদের আরও দৃঢ় ও গঠনমূলক ভূমিকা নিশ্চিত করবে।
“রাখালগাছিতে ‘তথ্য আপা’ প্রকল্পের উঠান বৈঠক: নারীর উন্নয়নে তথ্য প্রযুক্তির ভূমিকা”