মোঃমাহফুজুর রহমান ফরহাদ ইটনা,কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ নামে এলাকায় পরিচিত কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার জয়সিদ্ধি ইউনিয়নের আলগাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা (৭৩) বছর বয়সি গোর খোদক মনু মিয়া আর নেই।
গত ২৮ জুন শনিবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে তাহার নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মনু মিয়া ছিলেন এক নিঃস্বার্থ মানবসেবক, যিনি জীবনের প্রায় ৪৯ বছর ধরে বিনা পারিশ্রমিকে তিনি ৩০৫৭ টি কবর খননকরেছিলেন। যে কোন মানুষের মৃত্যুর সংবাদ পেলেই তিনি তার প্রিয় ঘোড়ায় চড়ে ছুটে যেতেন মৃতের বাড়িতে। সেখানে গিয়ে তিনি মৃতের জন্য কবর খনন করতেন।
বিনা পারিশ্রমিকে তিনি এ কাজ করতেন এমনি মৃতের বাড়িতে এক গ্লাশ পানিও পান করতেন না। এলাকায় তার এই ত্যাগ আর মানবিকতার জন্য ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ নামে পরিচিতি পান তিনি।
গত কিছুদিন আগে মনু মিয়া অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অসুস্থতার সময় দুর্বৃত্তদের হাতে প্রাণ হারায় তার বহু বছরের সঙ্গী প্রিয় ঘোড়াটি। এই ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। অনেকে নতুন ঘোড়া কিনে দিতে চাইলেও তিনি তা গ্রহণ করেননি। তিনি বলতেন,
"আমি এই কাজ করি শুধু আল্লাহকে খুশি করার জন্য, মানুষের কাছ থেকে কিছু নিতে চাই না।"
জয়সিদ্ধি ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. বাহাউদ্দিন ঠাকুর বলেন,
"আমরা একজন নিঃস্বার্থ, দয়ালু মানুষকে হারালাম। এমন মানুষ এখন খুবই বিরল।"
শনিবার বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে জয়সিদ্ধি মোল্লা হাটি কবরস্থানের মাঠে মনু মিয়ার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। মনু মিয়ার জানাজার নামাজের ইমামতি করেন মোঃ হাবিবুর রহমান চৌধুরী। জানাজায় বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
অভিনেতা খাইরুল বাসার জানাজায় অংশ নিতে ছুটে এলেও সময়মতো পৌঁছাতে পারেননি। জানাজা শেষে তিনি কবরস্থানে উপস্থিত হয়ে মনু মিয়ার কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাকে গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তিনি সাংবাদিকদের বলেন আজকে আমার এওয়ার্ড অনুষ্ঠান ছিল আমি খবর শুনা মাএই এওয়ার্ড অনুষ্ঠান রেখে সাথে সাথে রউনা দেই এই মহৎ মানুষ টিকে দেখার জন্য।এবং এলাকাবাসীর উদ্দেশ্যে তার জীবন ও অবদান স্মরণ করে আবেগঘন কথা বলেন।
জানাজা শেষে ‘শেষ ঠিকানার কারিগর’ মনু মিয়াকে জয়সিদ্ধি মোল্লা হাটি কবরস্থানে দাফন করা হয়। দাফন শেষে মনু মিয়ার আত্তার মাগফিরাত কামনা করা হয় এবং তার পরিবার কে জেন আল্লাহ উওম ধৈর্য্য ধারন করার তৈফিক দান করেন।তার এই মহৎ জীবনের নিঃস্বার্থ সেবা ও ভালোবাসা আজীবন এলাকার মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকবে।