জয়পুরহাট প্রতিনিধি: মোঃ রাফিউল ইসলাম রুবেল
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার বাগজানা ইউনিয়নের কুটাহারা গ্রামের তিন বছরের ছোট শিশু আয়ান প্রতিবেশীর গরু শিং দিয়ে আঘাত করে গুরুতর আহত করে।তা দেখে শিশুটির দাদি গরুকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে আঘাত করে গরু মালিককে বকাবকি করে ।
এতে গরুর মালিক ক্ষিপ্ত হয়ে দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে শিশুটির পরিবারের উপর হামলা করে সবাইকে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। বাগজানা ইউনিয়নের কুটাহারা গ্রামের ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রতিকারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার কুটাহারা গ্রামের মোফাজ্জলের পুত্র আঃ রশিদের ৩ বছরের নাতি আয়ানকে প্রতিবেশী মৃত সিরাজুলের পুত্র মোশারফের গরু শিং দিয়ে আহত করে। এসময় শিশুটির দাদি গরুটিকে বাঁশের কঙ্কি দিয়ে মেরে তাড়িয়ে দেয় এবং তাদেরকে গালাগালি করে।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গরুর মালিক মোঃ শহিদুল সহ তার ছেলেরা শিশুটির দাদি বুলবুলিকে মারধর করে আহত করে। এসময় শিশুর মা শাশুড়িকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে। ছেলের বউ ও স্ত্রীর আত্ম চিৎকারে
আঃ রশিদ তাদেরকে উদ্ধারে এগিয়ে আসলে তাকেও দেশীয় অস্ত্র রড লাঠি সোটা হাসুয়া দিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর করে।
এসময় গরু মালিকের পরিবার একে একে শিশুর পরিবারের সবাইকে মারধর করে আহত করে। সবশেষে রশিদের বড়ভাই রহিদুল আহতদের উদ্ধার করতে গেলে তাকেও সারা শরীরে আঘাত করে এবং একপর্যায়ে পশু কুড়াল দিয়ে কপালে কোপ দিয়ে গুরুতর আহত করে।
গ্রামবাসীরা আহত সবাইকে উদ্ধার করে জয়পুরহাট জেলা সদর আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে রহিদুলকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল ও পরে বগুড়া শহীদ জিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন কিন্তু তার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন।
ডাক্তারের পরামর্শে বর্তমানে তার চিকিৎসা ঢাকায় চলছে। রাশিদের অভিযোগ তারা আমার বৃদ্ধ মা, বোন ও বেড়াতে আসা আত্মীয়-স্বজনকেও মারধর করেছে। তিনি বলেন,থানায় অভিযোগ করেছি, আমরা এর সঠিক বিচারের চাই।
সরেজমিনে ঘটনাস্থল গিয়ে দেখা যায়, বিবাদী পক্ষের বাড়ির দরজায় তালা দেয়া। বাড়িতে কাউকে পাওয়া যায়নি। এজন্য তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে পাঁচবিবি থানার ওসি মোঃ ময়নুল ইসলাম বলেন, কুটাহারা গ্রামের রশিদ বাদী হয়ে থানায় একটি মারপিটের মামলা করেছে। আসামিদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।