আজীজুল রহমান,বাগেরহাট রিপোর্টার
সারা দেশের ন্যায় বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায়ও ২০২৫ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। উপজেলার শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও চ্যালেঞ্জের বিষয়টি সামনে এসেছে।
জাতীয় পরিসংখ্যান:
সারাদেশে মোট পরীক্ষার্থী: ১৯ লাখ ২৮ হাজার ৯৭০ জন
৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাশের হার: ৬৮.৪%
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড: ৬৮.০৯%
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড: ৭৩.৬৩%
GPA-5 পেয়েছে: ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২ জন
গত বছরের তুলনায় পাশের হার কমেছে: ১৪.৫৩%
ফকিরহাট উপজেলার সার্বিক ফলাফল:
মোট পরীক্ষার্থী: ১,৭১৮ জন
পাশ করেছে: ১,৩০৩ জন
ফেল: ৪১৫ জন
মোট GPA-5: ১৫০ জন
মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: ৪২টি
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল (৩০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান):
মোট পরীক্ষার্থী: ১,৩০০ জন
পাশ করেছে: ১,০০৯ জন (পাশের হার: ৭৮%)
ফেল করেছে: ২৯১ জন
GPA-5: ১৩৯ জন
সর্বোচ্চ সফল প্রতিষ্ঠান:
বাহিরদিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়
পরীক্ষার্থী: ১৫১ জন | পাশ: ১২৩ জন | পাশের হার: ৮১% | GPA-5: ২২ জন
সর্বনিম্ন সফল প্রতিষ্ঠান:
ধনপোতা মাসকাটা মাধ্যমিক বিদ্যালয়
পরীক্ষার্থী: ১৮ জন | পাশ: ৫ জন | পাশের হার: ২৮% | ফেল: ১৩ জন
সর্বনিম্ন অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান:
সরকারি সৈয়দ মহল্লা খোদেজা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়
পরীক্ষার্থী: ১০ জন | পাশ: ৭ জন | পাশের হার: ৭০% | GPA-5: ১ জন
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড (৯টি প্রতিষ্ঠান):
মোট পরীক্ষার্থী: ২৪১ জন
পাশ করেছে: ১৮৫ জন (পাশের হার: ৭৬.৮%)
ফেল: ৫৬ জন
GPA-5: ২ জন
সর্বোচ্চ সফল প্রতিষ্ঠান:
হযরত আমির হামজা (রাঃ) দাখিল মাদ্রাসা
পরীক্ষার্থী: ২৪ জন | পাশ: ১৯ জন | পাশের হার: ৭৯.২% | GPA-5: ১ জন
সর্বনিম্ন সফল প্রতিষ্ঠান:
ভাবনা ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা
পরীক্ষার্থী: ২২ জন | পাশ: ১১ জন | পাশের হার: ৫০% | GPA-5: ০
কারিগরি শিক্ষা বোর্ড (৩টি প্রতিষ্ঠান):
মোট পরীক্ষার্থী: ১৭৭ জন
পাশ করেছে: ১০৯ জন (পাশের হার: ৬১.৬%)
ফেল: ৬৮ জন
GPA-5: ৯ জন
সর্বোচ্চ সফল প্রতিষ্ঠান:
হাজী আব্দুল হামিদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
পরীক্ষার্থী: ৫৯ জন | পাশ: ৪০ জন | পাশের হার: ৬৭.৮% | GPA-5: ৪ জন
সর্বনিম্ন সফল প্রতিষ্ঠান:
সাকিনা আজাহার টেকনিক্যাল কলেজ
পরীক্ষার্থী: ৯৮ জন | পাশ: ৫৪ জন | পাশের হার: ৫৫.১% | GPA-5: ৩ জন
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের প্রতিক্রিয়া:
সুমনা আইরিন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, ফকিরহাট বলেন,
“ফকিরহাট উপজেলার শিক্ষার্থীরা এবারের ফলাফলে আশানুরূপ সাফল্য দেখিয়েছে।
পাশের হার ধরে রাখতে এবং মান উন্নয়নে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও পরিবেশবান্ধব চিন্তা-চেতনা গড়ে তুলতে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।”
মো. গোলাম মোস্তফা, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, ফকিরহাট বলেন,
“ফলাফলে দেখা যাচ্ছে, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি কিছু প্রতিষ্ঠানের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতের জন্য ধারাবাহিক প্রশিক্ষণ, মনিটরিং এবং কোচিং কার্যক্রমের উন্নয়ন করতে হবে।”
শিক্ষার্থীদের সফলতার গল্প যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি পিছিয়ে পড়াদের নিয়ে কাজ করার তাগিদও এবার স্পষ্ট। শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট সবাই এই চ্যালেঞ্জ ও সুযোগকে গুরুত্ব দিচ্ছেন।