
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) : শ্রীমঙ্গলে বহুল আলোচিত কলেজছাত্র হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একইসাথে হত্যায় ব্যবহৃত গামছা, স্কুল ব্যাগ, মোবাইল ফোন ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ৭ জুলাই সোমবার সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের কাকিয়াছড়া চা বাগান এলাকার ১ নম্বর সেকশনে একটি গাছের নিচে বেল্ট দিয়ে গলায় প্যাঁচানো অবস্থায় হৃদয়ের মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে পরিচয় শনাক্ত করে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা নং-১৪, ধারা ৩০২/২০১/৩৪ রুজু করা হয়।
মামলার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ সুপার এম. কে. এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন, পিপিএম-সেবা'র নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, পিপিএম ও সহকারী পুলিশ সুপার (শ্রীমঙ্গল সার্কেল) আনিসুর রহমান এর তত্ত্বাবধানে শ্রীমঙ্গল থানার ওসি আমিনুল ইসলাম এর নেতৃত্বে গঠন করা হয় একটি বিশেষ তদন্ত টিম। শহরের সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুই আসামির অবস্থান শনাক্ত করা হয়।
এরপর এসআই অলক বিহারী গুণ ও এসআই মোঃ মহিবুর রহমান এর নেতৃত্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল থানাধীন রাজাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন: ১. মোঃ কাজল মিয়া (২০) – পেশায় টমটম চালক, কিশোরগঞ্জ জেলার কুলিয়ারচর থানার দাড়িয়াকান্দি গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, বর্তমানে শাহীবাগ, শ্রীমঙ্গল; ২. মোঃ সিরাজুল ইসলাম (২১) – পেশায় বাদাম বিক্রেতা, সরাইল থানার রাজাপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, বর্তমানে শাহীবাগ, শ্রীমঙ্গল।
গ্রেফতারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নিহত হৃদয় আহমেদ ইয়াছিন কমলগঞ্জ সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র এবং শ্রীমঙ্গলের কালীঘাট রোড এলাকায় ওয়াইফাই অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন। তিনি অনলাইনে জুয়ার আসক্তিতে জড়িয়ে পড়েন এবং বন্ধুদের কাছ থেকে ধার নেওয়া অর্থ ফেরত দিতে না পারায় বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
কাজলের কাছে হৃদয়ের ২২ হাজার টাকা পাওনা ছিল। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া, এবং পরে চাকরি না হওয়া ও টাকা ফেরত না দেওয়ার কারণে উভয়ের মধ্যে বিরোধ চরমে ওঠে। ঘটনার দিন ৬ জুলাই রাত ১১টার দিকে পরিকল্পিতভাবে হৃদয়কে কাকিয়াছড়া চা বাগানে নিয়ে গিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং আত্মহত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করতে গলায় বেল্ট পেঁচিয়ে গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
পরে হৃদয়ের মোবাইল ফোন মাত্র ২৫০ টাকায় বিক্রি করে মোটরসাইকেলসহ রাজাপুরে আত্মগোপন করে তারা।
গ্রেফতারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।