জুলাই মাসজুড়ে চলা বিএনপির ‘গণঅভ্যর্থনা ও গণসংযোগ’ কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় রাজশাহী মহানগর বিএনপির উদ্যোগে ৫ আগস্ট শনিবার আয়োজন করা হয় ‘ফ্যাসিবাদের পতন ও ছাত্র-জনতার বিজয়ের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে বিজয় র্যালি ও আনন্দ মিছিল।দুপুরে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে র্যালিটি শুরু হয়ে জিরোপয়েন্ট ও সাহেববাজার হয়ে বাটার মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে মিছিলটি ঘুরে ফিরে ব্যাপক জনসমাগম তৈরি করে।
বিএনপির নেতারা বলেন, “গত বছর ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে যে ফ্যাসিবাদী সরকারের পতনের সূচনা হয়েছিল, আজ তার বর্ষপূর্তি। এই দিনটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছে।”আনন্দ মিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজুর রহমান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহিন শওকত আলী।সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ইরশাদ আলী ইশা। সঞ্চালনায় ছিলেন মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব মামুন আল রশিদ।বিজয় মিছিলে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক মো. লিটন, যুবদলের সদস্যসচিব রফিকুল ইসলাম রবি, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মো. জনি, মহানগর বিএনপির সদস্য মনিরুজ্জামান শরীফ ও জসীমউদ্দিন প্রমুখ সহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের বহু নেতাকর্মীরা।
বক্তব্যে নেতারা বলেন— “৪ ফেব্রুয়ারি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করা হয়েছিল। তাই জনগণকে তার অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পথ খুলে দিতে হবে।”
তারা আরও বলেন, দেশের বর্তমান শাসকগোষ্ঠী জনমতের তোয়াক্কা না করে একদলীয় শাসন চাপিয়ে দিয়েছে। এই সরকারের পতন ঘটিয়ে দেশের মানুষকে মুক্ত করা হবে।সমাবেশে নেতারা আরও ঘোষণা দেন যে, সামনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে হবে। জনগণের ভোটাধিকার, সাংবিধানিক অধিকার এবং আইনের শাসন ফিরিয়ে আনার জন্য আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।র্যালিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক অবস্থান ছিল। পুরো র্যালি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।