নতুন ভূমিকায় সানিয়া মির্জা, লড়ছেন নির্বাচনে
জাতীয় গ্রিডে বিপর্যয়, ঢাকা-চট্টগ্রামে একাংশ বিদ্যুৎহীন
বাংলাদেশে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের ঘোষণা
সাতক্ষীরার বৈকারী ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন অনুষ্ঠিত
ঢাকা বাইপাস সড়কন রূপগঞ্জের নলপাথর ফুটওভার ব্রিজের নির্মাণ কাজ চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ
রূপগঞ্জে ফ্রান্সপ্রবাসীর ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা ছিনতাই
সুনামগঞ্জে বিজিবি”র পৃথক দুটি অভিযানে দুইলাখ ৮৯ হাজার ৫শত টাকার ভারতীয় মাদক জব্দ
সুনামগঞ্জে আন্তর্জাতিক কৃষ্ণ অনুরাগী জাগ্রত যুব সংঘের উদ্যোগে শতাধিক অসহায় মানুষের মাঝে বস্ত্র বিতরণ
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেনটি ক্রিস্টেনসেন সস্রিক রূপগঞ্জের পূজামন্ডব পরিদর্শন
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে ৫৬৬ গ্রাম সোনাসহ যাত্রী আটক
আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসের পর্দা নামার মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রাপ্তির খাতায় একটাই স্বস্তি, জিন্নাত আক্তারের কল্যাণে পাওয়া একমাত্র ব্রোঞ্জ। উশুর সান্দা ৫২ কেজি বিভাগের এই ক্রীড়াবিদ মোশাররফ হোসেনের একাকিত্ব ঘুচিয়েছেন। ১৯৮৬ সালে সিউল গেমসে ব্রোঞ্জজয়ী বক্সার ৪০ বছর ধরে প্রথম এবং একমাত্র ব্যক্তিগত পদক জয়ী ছিলেন।
প্রাপ্তির খাতায় হাহাকার থাকলেও দলের আকার ছিল চোখে পড়ার মতো। ক্রিকেট, ফুটবল, আরচারি ও অ্যাথলেটিকস থেকে সার্ফিং, বিচ ভলিবল, কুস্তি ও উশু, সব মিলিয়ে ২২ ডিসিপ্লিনে নেমেছিল বাংলাদেশ। ৯০ পুরুষ ও ৯৭ নারী—১৮৭ ক্রীড়াবিদের সঙ্গে ৭৩ কোচ ও কর্মকর্তা যোগ হয়ে জাপানে এসেছিল ২৬০ সদস্যের বহর। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের (বিওএ) সংশোধিত বাজেট ছিল প্রায় সাড়ে ১৮ কোটি টাকা। সাড়ে ৪ কোটি প্রশিক্ষণে, বাকি ১৪ কোটি যাতায়াত, অংশগ্রহণে। অন্যান্য খাতের খরচ মিলিয়ে সেটা ২০ কোটি প্রায়। বিপুল এ খরচের বিনিময়ে প্রাপ্তি ওই এক পদক।
জিন্নাতের পথটা মোটেও সহজ ছিল না, বরং তা ছিল নাটকীয়। প্রথম রাউন্ডে বাই পান, কোয়ার্টার ফাইনালে ইন্দোনেশিয়ার প্রতিপক্ষ নির্ধারিত ওজন মেলাতে না পারায় অযোগ্য ঘোষিত হন। সেনাবাহিনীর এই ক্রীড়াবিদের সামনে তখন খুলে যায় সেমিফাইনালের দরজা। ১৬ জনের ওই বিভাগে শেষ চারে পৌঁছলেই পদক নিশ্চিত। সেমিতে চীনের উ দির কাছে হারলেও ব্রোঞ্জ ততক্ষণে তার হাতের মুঠোয়। ২৬ সেপ্টেম্বর ভোরে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে ফুল হাতে তাকে বরণ করেন ক্রীড়াঙ্গনের কর্তারা।
ক্রিকেটে এবার বৃষ্টি ছিল অন্যতম চরিত্র। পুরুষ দলের কোয়ার্টার ফাইনালে মালয়েশিয়ার বিপক্ষে একটি বলও গড়ায়নি। র্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকায় বাংলাদেশ সরাসরি সেমিতে ওঠে। সেখানে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হারতে হয়। ব্রোঞ্জ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার কাছে হারে ৬৩ রানে। যাত্রা শেষ হয় চতুর্থ স্থান নিয়ে। নারী দলের গল্পও অনেকটা একই। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার বৃষ্টিতে ভেসে গেলে র্যাংকিংয়ের জোরে তারা সেমিতে পৌঁছায়। ভারতের কাছে হারে সেমিতে, ব্রোঞ্জ ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হারতে হয়। সেখানেও চতুর্থ স্থান।
সবচেয়ে বড় আশাভঙ্গ ঘটেছে কাবাডিতে। পুরুষ দল দক্ষিণ কোরিয়াকে ৩৯-৩৫ ও চায়নিজ তাইপেইকে ৪৮-৪৭ ব্যবধানে হারালেও ভারতের কাছে ২৫-৪৮ ব্যবধানে হেরেছে। স্বাগতিক জাপানের কাছেও হেরে গ্রুপে চতুর্থ হয়েছে, সেমিফাইনালে ওঠা হয়নি। নারী দল ভারত ও ইরানের কাছে হেরেছে, জাপানকে ৪২-২২ ব্যবধানে হারিয়ে গ্রুপে তৃতীয় হয়েছে। হকিতে পুরুষ দল গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়েছে। পরে প্লে-অফে চীনের কাছে ১-৭ ব্যবধানে হেরেছে। শেষ ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ৩-০ গোলে হারিয়ে সপ্তম স্থান পেয়েছে। নারী দল সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ১-১ ড্রয়ের পর শুটআউটে জিতে নবম হয়েছে।
ব্যক্তিগত ইভেন্টে বেশির ভাগ চিত্র একই রকম। আরচারিতে ৬ দলগত ইভেন্টেই বাংলাদেশ বিদায় নিয়েছে। ব্যক্তিগত ইভেন্টে রিকার্ভে সায়মা সালাহউদ্দিন বাই পেয়ে শেষ ১৬ পর্বে পৌঁছান। কম্পাউন্ডে বন্যা আক্তারও সেই ধাপ পর্যন্ত যান। নওয়াজ আহমেদ রাকিব প্রি-কোয়ার্টারে থেমেছেন। রাম কৃষ্ণ সাহা, আব্দুর রহমান আলিফ ও সীমা আক্তার শিমু দ্বিতীয় রাউন্ডে, হিমু বাছাড় ও কুলসুম আক্তার মনি প্রথম ম্যাচেই বিদায় নিয়েছেন। শুটিংয়ে কেউ ফাইনালে ওঠেননি। অ্যাথলেটিক্সে ইমরানুর রহমান ১০০ মিটারে হিট পেরিয়ে সেমিফাইনালে গেলেও মেডেল রাউন্ডের নাগাল পাননি। নারীদের লংজাম্পে মোসাম্মত খাতুন হয়েছেন ১৫তম। টেবিল টেনিসে মিক্সড ডাবলসে মোহতাসিন হৃদয় ও নওরিন মাহি জুটি প্রথম রাউন্ডে লাওসকে হারিয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে থাইল্যান্ডের কাছে হেরেছেন। দুই দলগত ইভেন্টেই বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে পারেনি। ব্যাডমিন্টনে পুরুষ দল প্রথম রাউন্ডেই ভারতের কাছে ০-৩ ব্যবধানে হেরেছে। বিচ ভলিবলে নকআউটে ওঠা হয়নি।
সাঁতার, জিমন্যাস্টিকস, গলফ, সার্ফিং, ফেন্সিং, সাইক্লিং, কুস্তি ও জুডোতেও প্রাথমিক বাধা পেরোনো যায়নি। বক্সিংয়ে উৎসব আহমেদ ৫৫ কেজিতে মঙ্গোলিয়ার প্রতিপক্ষের কাছে ০-৫ ব্যবধানে হেরেছেন। এই আসরের সবচেয়ে ভারী ছবিটি এসেছে উশুর ম্যাট থেকে। পুরুষদের সান্দা ৫৬ কেজির কোয়ার্টার ফাইনালে চীনের ওউ জিয়ামিংয়ের আঘাতে পড়ে গিয়ে সজীব হোসেন স্ট্রেচারে করে বেরিয়ে যান। ছবিটি ছড়িয়ে পড়েছে সংবাদমাধ্যমে।
শেষ পর্যন্ত হিসাবটা সোজা। হাতে একটি ব্রোঞ্জ, দুটি চতুর্থ স্থান, আর বৃষ্টির কৃপায় পাওয়া দুটি সেমিফাইনাল। এ হিসাব ভাবায়, ভিড় বাড়িয়ে নয়, ক্রীড়াবিদের পেছনে বছরজুড়ে বিনিয়োগ করেই কি আগামী এশিয়াডে এই খাতা ভরানো যায় না!
মন্তব্য করুন