ময়লা ফেলার ডাস্টবিনই এখন ময়লার ভাগাড় - দেশেরমুখ
ইপেপার        
শিরোনামঃ
মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ফুড প্যাকেজ দিল রেড ক্রিসেন্টহত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অপু বিশ্বাসের নতুন সিনেমার নায়কএশিয়ান গেমসেও বাংলাদেশের নারীদের প্রতিপক্ষ ভারতআগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, ১০ মাসে সর্বনিম্নপ্রথম বিমানবাহী রণতরি হাতে পেল ইন্দোনেশিয়া, খরচ নিয়ে বিতর্কইরান বিষয়ে আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে: ট্রাম্পসহস্রাধিক গাড়ি নিয়ে রাত পোহালেই রংপুর অভিমুখী লং মার্চময়লা ফেলার ডাস্টবিনই এখন ময়লার ভাগাড়আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা: তিন প্রবাসী নতুন মুখ, বাদ পড়লেন যারানারী কোচের স্থান-সংখ্যা অস্পষ্ট আইনে, বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়
admin
১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩:০১ অপরাহ্ন
অনলাইন সংস্করণ

ময়লা ফেলার ডাস্টবিনই এখন ময়লার ভাগাড়

ময়লা ফেলার ডাস্টবিনই এখন ময়লার ভাগাড়
ময়লা ফেলার ডাস্টবিনই এখন ময়লার ভাগাড়

পটুয়াখালীর বাউফল পৌরশহর পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সরবরাহ করা হয়েছিল ডাস্টবিন। উদ্দেশ্য ছিল নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলার অভ্যাস তৈরি করা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা বন্ধ করা।

কিন্তু বাস্তবে সে উদ্যোগের সুফল মিলছে না। কোথাও ডাস্টবিন পড়ে আছে ময়লার ভাগাড়ে, কোথাও আবার ডাস্টবিন থাকলেও নিয়মিত ময়লা অপসারণ না করায় তা ব্যবহার করছেন না স্থানীয়রা। ফলে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার পরিবর্তে রাস্তাঘাটেই ফেলা হচ্ছে বর্জ্য। এতে ডাস্টবিন সরবরাহে ব্যয় করা ২৫ লাখ টাকা নিয়ে উঠেছে অপচয়ের প্রশ্ন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পরিকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (আরবান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট- ইউআইআইপি) আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসব ডাস্টবিন সরবরাহের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয় এবং ২০২৫ সালে ডাস্টবিনগুলো বাউফল পৌরসভায় সরবরাহ করা হয়।

ময়লা ফেলার ডাস্টবিনই এখন ময়লার ভাগাড়
ডেঙ্গুতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ছাড়াল ২৫০৭
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পে বাউফল পৌরসভার জন্য ৭৬৫টি ডাস্টবিন সরবরাহ করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬০০টি বিতরণ করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী এসব ডাস্টবিনের মোট মূল্য ২৫ লাখ ২৬ হাজার ২৫০ টাকা ৭৫ পয়সা। প্রতিটি ডাস্টবিনের মূল্য ৩ হাজার ৩০২ টাকা ২৯ পয়সা। পৌরশহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান, স্কুল, কলেজ, অফিস, মাদ্রাসা ও খাবার হোটেলের সামনে ডাস্টবিনগুলো দেওয়া হয়।

ময়লা ফেলার ডাস্টবিনই এখন ময়লার ভাগাড়
জামালপুরে সড়কের বেহাল দশা, ভোগান্তি চরমে
তবে ডাস্টবিনগুলোর ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেকে ডাস্টবিন ব্যবহার করলেও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত সেখান থেকে ময়লা সংগ্রহ করেন না। ফলে ডাস্টবিন পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পর আশপাশে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে। এতে ডাস্টবিন ব্যবহারে আগ্রহ হারাচ্ছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বিতরণ করা ডাস্টবিনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এখন কার্যত ব্যবহার হচ্ছে না। কোনো কোনো ডাস্টবিন সরিয়ে অন্যত্র রাখা হয়েছে। আবার কোথাও ডাস্টবিন পড়ে আছে ময়লার ভাগাড়ে। ফলে যে ডাস্টবিনে ময়লা ফেলার কথা, সেটিই এখন ময়লার স্তূপের মধ্যে পড়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

সরেজমিনে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, নির্দিষ্ট ডাস্টবিনের পরিবর্তে রাস্তার পাশে, ফুটপাতের ওপর এবং বিভিন্ন খোলা জায়গায় ময়লা ফেলা হচ্ছে। কোথাও ডাস্টবিন থাকলেও তার আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে পচা-আবর্জনা। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে দুর্গন্ধে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবদুস ছালাম বলেন, ‘শুধু ডাস্টবিন সরবরাহ করলেই পৌরশহর পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। ডাস্টবিন সঠিক স্থানে স্থাপন, নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ এবং এগুলোর যথাযথ ব্যবহারে নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে সরকারি অর্থ ব্যয় করে কেনা এসব ডাস্টবিন কোনো কাজে আসবে না।’

৭নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আরিফ বলেন, ‘ডাস্টবিনে ময়লা ফেললেও যদি নিয়মিত পরিষ্কার করা না হয়, তাহলে মানুষ সেখানে ময়লা ফেলতে চাইবে না। এখন অনেক জায়গায় ডাস্টবিনের বদলে রাস্তায় ময়লা পড়ে থাকতে দেখা যায়।’

৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘লাখ লাখ টাকা খরচ করে ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেগুলোর অনেকগুলো এখন ব্যবহার হয় না। কোথাও আবার ডাস্টবিনই পড়ে আছে ময়লার ভাগাড়ে। তাহলে এত টাকা খরচ করে লাভ কী হলো?’

পৌরবাসীর প্রশ্ন, ২৫ লাখ টাকার বেশি ব্যয়ে সরবরাহ করা ডাস্টবিনের একটি বড় অংশ যদি ব্যবহার না হয় এবং রাস্তায় ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ না হয়, তাহলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য কতটা বাস্তবায়িত হয়েছে?

তাদের দাবি, বিতরণ করা ডাস্টবিনগুলোর বর্তমান অবস্থা যাচাই করে যেগুলো ব্যবহার হচ্ছে না সেগুলো পুনরায় নির্ধারিত স্থানে স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও ডাস্টবিন ব্যবহারে পৌরসভার কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

এ বিষয়ে বাউফল পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈনুল হক বলেন, ‘স্কুল, কলেজ, অফিস, মাদ্রাসা ও খাবার হোটেলের সামনে ডাস্টবিনগুলো দেওয়া হয়েছে। আমরা তো দিয়েছি ভালো উদ্দেশ্যে। এখন কেউ যদি ডাস্টবিন নিয়ে খারাপ উদ্দেশ্যে ব্যবহার করে, সেটা দুঃখজনক বিষয়।’

Facebook Comments Box

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মহালছড়িতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ফুড প্যাকেজ দিল রেড ক্রিসেন্ট

হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অপু বিশ্বাসের নতুন সিনেমার নায়ক

এশিয়ান গেমসেও বাংলাদেশের নারীদের প্রতিপক্ষ ভারত

আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, ১০ মাসে সর্বনিম্ন

প্রথম বিমানবাহী রণতরি হাতে পেল ইন্দোনেশিয়া, খরচ নিয়ে বিতর্ক

ইরান বিষয়ে আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে: ট্রাম্প

সহস্রাধিক গাড়ি নিয়ে রাত পোহালেই রংপুর অভিমুখী লং মার্চ

ময়লা ফেলার ডাস্টবিনই এখন ময়লার ভাগাড়

আসিয়ান কাপের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা: তিন প্রবাসী নতুন মুখ, বাদ পড়লেন যারা

নারী কোচের স্থান-সংখ্যা অস্পষ্ট আইনে, বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়

১০

সুনামগঞ্জের নতুনপাড়ায় জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের অফিস উদ্বোধন করেন পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক

১১

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর পদক্ষেপ ও অগ্রগতি জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি

১২

১৫ বছরের বিস্ময় বালককে পেতে মুখোমুখি রিয়াল-বার্সেলোনা

১৩

ছাদে সোলার প্যানেল স্থাপন ২ শতাংশ সুদে ঋণ চান দোকান মালিকরা

১৪

শাল্লায় নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ফুসঁলিয়ে বখাটে জয়ন্ত দাস পালিয়ে যায়,থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের

১৫

রূপগঞ্জে লোকালয়ের ময়লা আবর্জনার স্তুপ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন \ অবরোধ ও বিক্ষোভ

১৬

রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই

১৭

সালথায় ২০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার: গ্রেপ্তার ১

১৮

পীরগঞ্জে আখ চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক, খরচ কম,ফলন বেশী

১৯

জোনাকী শিল্পীগোষ্টি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন

২০