রংপুরের হাজীরহাট থানার অভিযানে, পলাতক আসামি নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার
মরিচপুরান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মাসুদ পারভেজ তালুকদারের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত
মহালছড়িতে শিক্ষার্থীদের ‘স্টার্টআপ ও বিজ্ঞান প্রকল্প প্রদর্শনী’ অনুষ্ঠিত
বিশ্বম্ভরপুরে মাদক নিমূল ও প্রতিরোধে সচেতনতা মুলক সভা
হরিরামপুরে ‘স্টার্টআপ, সায়েন্স প্রজেক্ট অ্যান্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং’ অনুষ্ঠিত
১২৫তম বর্ষপূর্তিতে সরকারি মুড়াপাড়া পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষ্যে রচনা, উপস্থিত বক্তৃতা, ও চিত্রাঙ্গন প্রতিযোগীতা
মধ্যনগরে স্টার্টআপ, বিজ্ঞান প্রকল্প ও উদ্ভাবনী ভাবনা প্রদর্শনী
ঢাকা জেলা পুলিশের নিয়মিত পুলিশি কার্যক্রম ও বিশেষ অভিযান সংক্রান্ত প্রেস রিলিজ
রংপুরে বায়নার নামে ১৫ বছর ধরে জমি ভোগ দখল
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ
বিশ্বের অনেক দেশেই বস্তি থেকে উঠে আসা লোকেরা কালক্রমে বিখ্যাত হয়েছেন। যেমন মার্শাল টিটো, পেলে, ডিয়াগো ম্যারাডোনা ও রোনালদিনহোর মতো আরো অনেকে জগৎবিখ্যাত ব্যক্তির শৈশব কেটেছে বস্তিতে। বাংলাদেশেও বস্তি থেকে উঠে আসা অনেক লোকের নাম ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন সময়ে।
তবে তাদের পরিচিতি হয়েছে কুখ্যাত সন্ত্রাসী, দুধর্ষ চাদাবাজ ও ভাড়াটে খুনি হিসাবে। রূপগঞ্জের চনপাড়া বস্তি তেমনই একটি ক্রাইম জোন। যেখানে রয়েছে আলাদীনের চেরাগ! অবৈধ ব্যবসার বদৌলতে অনেকে হয়েছেন কোটিপতি। গড়ে ওঠেছে ইয়াবা তৈরির কারখানা রয়েছে মাদকের জাল।
এছাড়া মুক্তা ব্যবসা, সাপের বিষের ব্যবসা, খয়ের পার্টি, মলম পার্টি, ছিনতাইকারী গ্রুপ থেকে শুরু করে কি নেই এখানে। গা শিউরে উঠার মতো কাহিনী রয়েছে চনপাড়ায়। সংস্কৃতি কর্মী সাজিয়ে নারী পাচারের ঘটনাও ঘটছে চনপাড়ায়। প্রতিদিন সংবাদের অনুসন্ধানে মিলেছে এমন সব চমকপ্রদ তথ্য।
চনপাড়া জুড়ে মাদকের জাল সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়, চনপাড়া জুড়েই রয়েছে মাদকের জাল। সরকার আসে, সরকার যায়। কিন্তু চনপাড়ার মাদক ব্যবসা বন্ধ হয় না। চনপাড়াকে সবাই মাদকের হাট বলেই জানে। চনপাড়ায় রয়েছে ২শ’ মাদক ব্যবসায়ী। আর মাদক সেবী রয়েছে কয়েক হাজার।
সংস্কৃতি কর্মী সাজিয়ে সুন্দরী মেয়েদের পাচার অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিবছর চনপাড়া পূর্ণবাসন এলাকা থেকে ২০ থেকে ২৫ জন সুন্দরী মেয়েকে সংস্কৃতি কর্মী সাজিয়ে তিন থেকে ছয় মাসের ভিসায় কলকাতা, সিঙ্গাপুর, সৌদি, বাহরাইন, কাতার, দুবাই, আরব-আমিরাত, পাকিস্তান ও আফ্রিকায় পাঠানো হয়। এতে বুঝার কোনো উপায় থাকে না।
সুন্দরী মেয়েদের ভালো কাজের কথা বলে পাঠানো হয়।
রয়েছে খয়ের-মলম ও ছিনতাইকারী গ্রুপ জানা যায়, চনপাড়ায় রয়েছে খয়ের-মলম ও ছিনতাকারী গ্রুপ। এরা রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অপকর্ম করে বেড়ায়। প্রায় ৪০ টি টিম রয়েছে খয়ের-মলম পার্টির। আর ছিনতাকারী গ্রুপ রয়েছে ২৫ টি।
ইয়াবা তৈরির কারখানা অনুসন্ধানে জানা যায়, চনপাড়ায় ইয়াবা তৈরির কারখানা গড়ে ওঠেছে। ইয়াবা কারবারির ঘনিষ্ট একটি সূত্র জানায়, চনপাড়ায় ইয়াবা পাচার কাজে ব্যবহার করা হয় নারীদের। এসব নারীরা গোপনাঙ্গের ভেতরে ইয়াবা প্রবেশ করিয়ে নিয়ে আসছে। চনপাড়ার নারী ভ্যাম্পায়াররা কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে গোপনাঙ্গে ইয়াবা পাচারের প্রশিক্ষণ রপ্ত করে আসে।
বর্তমানে চনপাড়ার তিন ডজন নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে গোপনাঙ্গে করে ইয়াবা পাচারের কাজ করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রশিক্ষণরত এক নারী কারবারি বলেন, গোপনাঙ্গে ৬’শ ইয়াবা রাখার ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। আকারে ছোট হওয়ায় নারীরা কনডমে ভরে মুড়িয়ে গোপনাঙ্গে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এতে কোন সমস্যা হয় না।
খুনের রাজ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, ৭৪’ সালের পর থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গত ৪১ বছরে চনপাড়ায় ১৭ টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, এলাকার আধিপত্য ও দলীয় কোন্দলে এসব হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে।
গত ১৯৯৪ সালে যুবদল নেতা চানমিয়া, ২০০০ সালে খুন হয় পুলিশের এমসআই হানিফ মিয়া, ২০০৫ সালে খুন হয় ক্রিকেটার ফালান মিয়া, ১৯৭৯ সালে খয়ের পার্টির সদস্য হাফেজ আলী, ১৯৮২ সালে পাভেজ মিয়া, ২০০৩ সালে ফিরোজ সরকার, ১৯৭৬ সালে বাদশা খুন হয়। বজলু, কুট্টি, সিটি শাহিন, রমজান, রিক্সাচালক সিয়াম, পথচারী সাওনসহ অনেক অজানা খুনের বিচার আজও হয়নি।
সূত্রে জানা যায়, চনপাড়ায় রয়েছে ৪০ জনের মতো ভাড়াটে কিলার। রূপগঞ্জের আলোচিত সব খুনের সঙ্গে চনপাড়ার কিলাররা জড়িত রয়েছে। এ বস্তিতে আসতো নারায়ণগঞ্জের একসময়কার শীর্ষ সন্ত্রাসী কামরুজ্জামান কামু, আনোয়ার। ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী টোকাই সাগর, মুরগী মিলন, পিচ্চি হান্নানসহ অনেকে। ৭৪’-র পরবর্তী রূপগঞ্জের আলোচিত ৪২ হত্যাকান্ডের ২৯ টি সংঘটিত হয়েছে এ বস্তিতে বসবাসরত কিলারদের মাধ্যমে।
চাঞ্চল্যকর শিল্পপতি রাসেল ভূইয়া, খালেদ বিন জামাল, তারেক বিন জামাল, ছাত্রদল নেতা শফিকুল ইসলাম, কাঞ্চনের মোক্তার হোসেন, ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন, উপশহরের ঠিকাদার বেলায়েত হোসেনসহ আলোচিত অধিকাংশ হত্যা মামলার আসামী চনপাড়া বস্তি এলাকার।
সোর্সদের দাপটে অতিষ্ঠঃ স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পুলিশের সোর্সদের কারণে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে ওঠেছে। এসব সোর্সরা বিনা দোষে সাধারণ মানুষকে ফাসিয়ে দিচ্ছে। চনপাড়ার অবৈধ ব্যবসাকে ঘিরে গড়ে ওঠেছে এসব সোর্স। এদের মাধ্যমেই থানা পুলিশ টাকা আদায় করে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ওরা ৪৫ সুদি মহাজন স্থানীয়রা জানান, চনপাড়ায় তাবলীগ জামাতের সাদ ও যোবায়ের গ্রুপের লোকই সক্রিয় থাকার পরও মাদকের পরেই সুদি ব্যবসা জমজমাট হয়ে ওঠেছে। চনপাড়ায় রয়েছে ৪৫ জন সুদি মহাজন। এরা খেটে খাওয়া গরীব মানুষের রক্ত চুষে খাচ্ছে। এদের খপ্পড়ে পড়ে অনেকে সর্বশান্ত হয়েছে।
প্রশাসনের বক্তব্য রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ তরিকুল ইসলাম বলেন, আমি নতুন এসেছি। চনপাড়াসহ সকল অপরাধীদের দমন করব। চনপাড়া নানা অপরাধের এলাকা এটা সত্য। তবে খুব শীঘ্রই অভিযান চালিয়ে অপরাধ নির্মূল করা হবে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম বলেন, এটা ক্রাইম জোন। যৌথ অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন