সিলেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে এনসিপির নাসীরুদ্দীন ও সার্জিসের কটুক্তির প্রতিবাদে সুনামগঞ্জের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা
জগন্নাথপুরে ধর্মীয় অনুষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে হাওরে নৌকা ডুবে ৪জন নিখোঁজ,১ জনের লাশ উদ্ধার।
সাবেক মন্ত্রী হারুনার রশিদ খান মুন্নুর ৯ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে পুষ্প অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন-হরিরামপুর উপজেলা বিএনপি।
রূপগঞ্জে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ উন্নয়ন অভিযান পরিচালনা
বার বার ফুলের বাগানে কেন চুরি? রূপগঞ্জে ব্রাইট শিশু কানন হাই স্কুলে পরিকল্পিত লুটপাট
অবশেষে পীরগঞ্জ পৌরসভার সরকারি বরাদ্দকৃত চালের পরিবর্তে খোলা বাজারের চাল কিনে উপকার ভোগীদের মাঝে বিতরণ করলেন পৌর সচিব
পৈতৃক ভিটা-মাটি রক্ষার দাবিতে ১০ গ্রামের মানুষের প্রতিবাদসভা ও গণস্বাক্ষর
হরিরামপুরে পদ্মা কিশোর ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন- সভাপতি জাহিদুল হাসান টুটুল, সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম
রূপগঞ্জে মাদকের যম ইউএনও সাইফুল
রূপগঞ্জে চার কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
জয় চন্দ্র শীল, বরগুনা প্রতিনিধি
বরগুনায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে লোকালয় ও বনাঞ্চলের পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য অবৈধ কয়লা তৈরির চুল্লি (লোকাল পরিভাষায় ‘কয়লার চিমনি’)। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে, কোথাও আবার স্থানীয় প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের ছত্রছায়ায় দিন-রাত পুড়ছে বনের কাঠ। এই চুল্লিগুলো থেকে নির্গত কালো বিষাক্ত ধোঁয়ায় একদিকে যেমন উজাড় হচ্ছে সবুজ বনাঞ্চল, অন্যদিকে মারাত্মক হুমকিতে পড়েছে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশ। বিপন্ন হয়ে পড়ছে পুরো জনপদ।
সরেজমিনে বরগুনার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফসলি জমি, ফলদ বাগান এবং ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার একদম কাছেই তৈরি করা হয়েছে এসব মাটির চুল্লি। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই চুল্লিগুলো থেকে অনবরত বের হচ্ছে ঘন কালো ধোঁয়া। বাতাসের সাথে মিশে এই ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ছে মাইলের পর মাইল।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, চুল্লির ধোঁয়ার কারণে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হয়। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে কোমলমতি শিশুরা ও বয়োবৃদ্ধরা। ধোঁয়ার কারণে সারাক্ষণ চোখ জ্বালাপোড়া করা, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট এখন এ অঞ্চলের নিত্যদিনের সঙ্গী।
এই কয়লা চুল্লিগুলোর প্রধান কাঁচামাল হলো কাঠ। স্থানীয় বনাঞ্চল, সামাজিক বনায়নের গাছ এবং ফলদ গাছ কেটে কম দামে কিনে এনে পুড়িয়ে কয়লা করা হচ্ছে।
প্রতিদিন হাজার হাজার মণ কাঠ পুড়ছে এই চুল্লিগুলোতে, যার ফলে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে এ অঞ্চলের বৃক্ষসম্পদ।
আশপাশের চাষিরা জানান, চুল্লির চরম তাপ ও ধোঁয়ার কারণে ধানের ফলন কমে গেছে। ঝরে পড়ছে আম, জাম, নারকেল ও সুপারির মুকুল। অনেক ফলদ গাছ ইতিমধ্যেই মরে গেছে বা পাতা ঝলসে গেছে।
ঘরে ঘরে বাড়ছে রোগবালাই চিকিৎসকদের মতে, কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরির সময় কার্বন মনোক্সাইড, সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো মারাত্মক ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয়।”এই বিষাক্ত ধোঁয়া দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে প্রবেশ করলে ফুসফুসের ক্যান্সার, ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। বিশেষ করে শিশুদের ফুসফুস স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে শ্বাসকষ্ট ও চর্মরোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে বলে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, লোকালয় বা বনাঞ্চলের কাছাকাছি এ ধরনের চুল্লি স্থাপন সম্পূর্ণ অবৈধ এবং দণ্ডনীয় অপরাধ। অথচ বরগুনার এই চুল্লিগুলোর বেশিরভাগেরই কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র বা বৈধ কোনো কাগজপত্র নেই। মাঝে মাঝে প্রশাসন ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কিছু চুল্লি ভেঙে দিলেও, কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবার নতুন করে চালু হয় সেই চুল্লি।
স্থানীয়দের দাবি, স্থায়ীভাবে এই চুল্লি বন্ধ করতে না পারলে এই অঞ্চলের পরিবেশ চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।এজন্য দরকার স্থায়ী সমাধান।পরিবেশবিদদের মতে,শুধু জরিমানা বা সাময়িক উচ্ছেদই যথেষ্ট নয়। বরগুনার এই সুন্দর প্রকৃতি এবং সাধারণ মানুষকে বাঁচাতে হলে,অবৈধ কয়লা চুল্লির মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।
জ্বালানি হিসেবে কাঠের বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে যাতে কেউ চুল্লি মালিকদের কাছে কাঠ বিক্রি না করে।
সবুজ-শ্যামল বরগুনাকে বিষধোঁয়ার কবল থেকে মুক্ত করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ পরিবেশ দিতে এখনই প্রশাসনের কঠোর ও স্থায়ী পদক্ষেপ একান্ত কাম্য।
মন্তব্য করুন