শাল্লায় নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ফুসঁলিয়ে বখাটে জয়ন্ত দাস পালিয়ে যায়,থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের
রূপগঞ্জে লোকালয়ের ময়লা আবর্জনার স্তুপ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন \ অবরোধ ও বিক্ষোভ
রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই
সালথায় ২০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার: গ্রেপ্তার ১
পীরগঞ্জে আখ চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক, খরচ কম,ফলন বেশী
জোনাকী শিল্পীগোষ্টি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন
সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সুনামগঞ্জ জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের নেতৃবৃন্দরা
জ্বালানি সংকটে রূপগঞ্জে আম্বার বোর্ড মিলস বন্ধ ঘোষণাঃ শ্রমিকদের ক্ষোভ
চিরতরে থমকে গেল দুই জীবন: মহালছড়ি মাইসছড়িতে বজ্রপাতে দম্পতির মৃত্যু
সুনামগঞ্জের লাউড়েরগর গ্রামে আসাদ মিয়ার ঘর থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিল,ফোসকাসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ।
সম্রাট আলাউদ্দিন,ধামরাই (ঢাকা)
ঢাকার ধামরাইয়ে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারী পুড়িয়ে সিসা তৈরির ধোঁয়ার ফলে শ্বাস কষ্টসহ নানা ধরনের জটিল ও কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।ফলে জনস্বাস্থ্য ঝুকির মুখে পড়েছে এলাকাবাসি। এছাড়া ব্যাটারী পুড়িয়ে সিসা তৈরির ফলে তিন ফসলি জমিসহ বিভিন্ন গাছের ফল ও ঝরে পড়ছে । শুধু তাই নয় আবার বিভিন্ন গাছ কেটে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করে। সেই কয়লা দিয়ে সিসা গালিয়ে পাটা তৈরি করে। যার কারণে দিন দিন এলাকার গাছপালা উজার হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরুপ।প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে আইনের তোয়াক্কা না করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের স্কেল এর পশ্চিম পাশে খোলা জায়গায় পুরাতন ব্যাটারী পুড়িয়ে সিসা তৈরি করিতেছে ধামরাই উপজেলার গাংগুটিয়া ইউনিয়নের মোঃ ওবায়দুল নামে এক ব্যাক্তি। তিনি নিজের প্রভাব খাটিয়ে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে অবৈধ ব্যবসা করে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে।পুরাতন ব্যাটারী পুড়িয়ে সিসা তৈরি করার ফলে পরিবেশের মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে বলে এলাকাবাসির দাবি। কারণ ব্যাটারী পুড়িয়ে সিসা তৈরি এবং কাঠ পুড়িয়ে কয়লা তৈরি করার ফলে কালো ধোঁয়ার কারণে আশ পাশের এলাকায় লোকজনের দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের অজানা রোগ এবং ছোট বড় সকলের দেখা দিয়েছে শ্বাসকষ্ট। এই ব্যাপারে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করার ফলে উল্টো প্রতিবাদ কারীদের বিভিন্ন হামলা মামলার ভয় দেখিয়ে এলাকা ছাড়ার হুমকি প্রদান করে ওবায়দুল। সরেজমিনে গিয়ে দেখাযায়, ওবায়দুল পাশাপাশি দুইটি জায়গায় ব্যাটারী পুড়িয়ে সিসা তৈরির ফলে চারপাশের বাড়ীর টিনের তৈরি ঘরগুলির টিন ছিদ্র ছিদ্র হয়ে গেছে। কারণ পুরাতন ব্যাটারী পুড়িয়ে সিসা তৈরি ফলে বিষাক্ত কালো ধোঁয়া চারদিকে ছড়িয়ে পরার কারণে শ্বাস প্রশ্বাসে ভেঁসে আসে ঝাঁঝালো গন্ধ। যা পরিবেশের জন্য হুমকি স্বরুপ। শুধু তাই নয় মানুষের জন্য ও বিশাল ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়িয়েছে। রাতের অধারে শ্রমিকরা কোন প্রকার নিরাপত্তা বযাই না রেখে খোলা জায়গায় হাতে মুখে গ্লাভস মার্কস না পরে আগুন জ্বালিয়ে পুরাতন ব্যাটারী পুড়িয়ে সিসা তৈরি করিতেছে। শ্রমিকদের জিঞ্জাসাবাদ করে জানা যায়, এই ভাবে রাতে একই চুল্লিতে পুরাতন ব্যাটারী পুড়িয়ে সেই ব্যাটারী থেকে সিসা বের করা হয়। পরে সেই সিসা আবার লোহার তৈরি কড়াইয়ে ঢেলে পাটা তৈরি করা হয় এবং প্রতিটি পাটার ওজন প্রায় ৩০/৩২ কেজি। পরে সে গুলি বাজারে বিক্রি করা হয়।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলে, আমার বাড়ীর পাশে এই কারখানার কারণে আমিসহ আমার বাড়ীর ছোট ছোট বাচ্চারা শ্বাসকষ্ট সহ নানা ধরণের রোগ দেখাদিয়েছে। আমিসহ এলাকার সবায় মিলে ওবায়দুলকে বার বার নিষেধ করা হয়।কিন্তু উল্টো সে আমাদের বিভিন ধরনের মামলা হামলার ভয়-ভীতি দেখায়।আমরা এখন অসহায় হয়ে পড়েছি। তাই আমাদের দাবি যাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে খোলা জায়গায় এই অবৈধ সিসা কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়।পুরাতন ব্যাটারী পুড়িয়ে সিসা তৈরি মিস্ত্রি কাদের জানান, ভাই কাগজপত্র সর্ম্পকে আমরা কিছু বলতে পারব না। এই গুলি সর্ম্পকে মালিক ভাল বলতে পারবে। আমরা জানি এই কাজ করলে আমাদের বিভিন্ন ধরনের আসুখ হবে কি করব পেটের দুঃখে কাজ করে খায়।এই ব্যাপারে পথচারী মোঃ আতা মিয়া বলেন, পুরানো ব্যাটারীর সিসা গলানোর কারণে এলাকার অনেক মানুষের বিভিন্ন ধরণের রোগবালায় সহ মারাত্মক শ্বাসকষ্টের রোগে ভোগতেছে। জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে সেই সাথে এলাকার গাছ পালার সকল ফল ও জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হচ্ছে। তিনি আর বলেন এসিডযুক্ত ধোঁয়া নির্গত হওয়ায় জমির ফসলের ক্ষতির কারণ।এই ব্যাপারে ব্যাটারী কারখানার মালিক মোঃ ওবায়দুল এর সাথে কথা বলতে গেলে সে সাংবাদিকদের বলে, আমরা ব্যাটারি কারখানা থেকে ওয়েছটিস এনে সেগুলি থেকে সিসা বের করে আগুনে গালিয়ে বাটা তৈরি করে বাজারে বিক্রি করি। আমরা কার কোন ক্ষতি করি না।এই ব্যাপারে ধামরাই উপজেলা কৃষি অফিসার মোঃ আরিফুর রহমান বলেন, সিসা এমনি এক খারাপ পদার্থ। এইটা যেখানে পরবে, সেখানে কোন ধরনের ফসল হবে না। হলেও সেটা মানবদেহের জন্য খুবই ক্ষতিকর।এই ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) সাফফাত আরা সাঈদ বলেন, অবৈধ সিসা কারখানার মালিকের বিরুদ্ধে আইন অনুযাযী ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আর বলেন যা মানবদেহের জন্য হুমকিস্বরুপ ও জমির ফসলের জন্য ক্ষতিকর সেই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন