শাল্লায় নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থীকে ফুসঁলিয়ে বখাটে জয়ন্ত দাস পালিয়ে যায়,থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের
রূপগঞ্জে লোকালয়ের ময়লা আবর্জনার স্তুপ অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন \ অবরোধ ও বিক্ষোভ
রূপগঞ্জে পাঠাও কর্মীকে আটকে রেখে মারধর, নগদ টাকা ও মালামাল ছিনতাই
সালথায় ২০ লিটার দেশীয় মদ উদ্ধার: গ্রেপ্তার ১
পীরগঞ্জে আখ চাষে লাভবান হচ্ছেন কৃষক, খরচ কম,ফলন বেশী
জোনাকী শিল্পীগোষ্টি সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন
সুনামগঞ্জে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সুনামগঞ্জ জেলা জন্মাষ্টমী পরিষদের নেতৃবৃন্দরা
জ্বালানি সংকটে রূপগঞ্জে আম্বার বোর্ড মিলস বন্ধ ঘোষণাঃ শ্রমিকদের ক্ষোভ
চিরতরে থমকে গেল দুই জীবন: মহালছড়ি মাইসছড়িতে বজ্রপাতে দম্পতির মৃত্যু
সুনামগঞ্জের লাউড়েরগর গ্রামে আসাদ মিয়ার ঘর থেকে ৩০০ বোতল ফেনসিডিল,ফোসকাসহ ভারতীয় পণ্য জব্দ।
আবির হোসেন সান (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৫ থেকে র্যাব পরিচয়ে অপহৃত হাফিজ উল্লাহকে অবশেষে জীবিত উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার নাটকীয়তা, অপহরণকারীদের পরিচয় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ অভিযান নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে।
১১ জুন রাত ১১টার দিকে ক্যাম্প-১৫ এর বাসিন্দা হাফিজ উল্লাহকে নিজ ঘর থেকে অপহরণ করে অস্ত্রধারী তিনজন ব্যক্তি। তারা নিজেদের র্যাব সদস্য পরিচয় দিয়ে অপহরণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে। মূল অপহরণকারী হিসেবে চিহ্নিত হন বরখাস্ত সেনাসদস্য মো. সুমন মুন্সি (৩২), তার সহযোগী রাকিব ও শিকদার। স্থানীয় এনায়েত উল্লাহ ও নবী হোসেনও অপহরণে সহায়তা করেন।
অপহরণের পর হাফিজ উল্লাহর পরিবারের কাছে ১৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় এবং স্পষ্ট হুমকি দেওয়া হয়—প্রশাসনের সহায়তা নিলে ভিকটিমকে হত্যা করা হবে।
অভিযান ও উদ্ধার
র্যাব-১৫ অপহরণকারীদের ধরতে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করে। প্রথমে কুখ্যাত ডাকাত সর্দার শাহআলমের বাড়ি থেকে আফ্রিদি ও আব্দুল গফুরকে আটক করা হয়। পরে মরিচা বাজার এলাকা থেকে বরখাস্ত সৈনিক মো. সুমন মুন্সিকে গ্রেফতার করা হয়, যার কাছ থেকে একটি দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র, তিন রাউন্ড গুলি, র্যাবের পোশাক ও ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়।
১৪ জুন, শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত র্যাব, বিজিবি, এপিবিএন, পুলিশ ও বনবিভাগের যৌথ সাঁড়াশি অভিযানে ২৫৬ জন সদস্য রঙ্গিখালী এলাকার গহীন অরণ্যে অভিযান চালান। এই অভিযানের ৭২ ঘণ্টা পর হাফিজ উল্লাহকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
অপহরণকারী সুমনের অতীত
গ্রেফতার হওয়া মো. সুমন মুন্সি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ডুমরাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ২০১৯ সালে সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন। তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় অন্তত ১১টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে অস্ত্র, অপহরণ, ডাকাতি ও প্রতারণা সংশ্লিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
প্রতিরোধের অঙ্গীকার
র্যাব জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং সংলগ্ন গহীন পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের দমন ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান চলবে। এলাকাগুলোকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা হুমকির মুখে!
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল, রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের প্রভাব বাড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক ও পরিচয় ব্যবহার করে অপহরণের মতো ঘটনাও ঘটছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করছে। পাশাপাশি, বরখাস্ত সেনাসদস্য বা প্রশিক্ষিত ব্যক্তিরা যখন অপরাধে জড়ায়, তখন বিষয়টি আরও জটিল হয়।
হাফিজ উল্লাহর উদ্ধারের ঘটনা শুধু একটি অপহরণ-উদ্ধার গল্প নয়, বরং এটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে নিরাপত্তাহীনতার বড় উদাহরণ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি এবং সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এ ধরনের তৎপরতা দমন না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
মন্তব্য করুন